উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম নিজেদের দীর্ঘ গবেষণা ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি কার্যকর,যুগোপযোগী সিলেবাস ও গঠনতান্ত্রিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। যাতে কুরআনের হেদায়াত ও আকাবিরে দেওবন্দের মূলনীতি ঠিক রেখে প্রয়োজনীয় ভাষাসমূহের সমন্বয়ে করা হয়েছে। কাঠগড়া সিদ্দিকীয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা। মাদ্রাসাটি ২০২৪ সালে আগস্ট মাসের ১৬ তারিখে হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী ও তার সঙ্গে কিছু সহযোগী নিয়ে প্রথম যাত্রা শুরু করেন।
প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পরিসরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা তৈরির ফিকির নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা ও রংপুর পীরগাছা সহ বিভিন্ন জেলার মধ্যে শাখা খুলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মিরপুর শেওড়াপাড়ায় সিদ্দিকীয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।নবিজীর আদর্শে আদর্শবান হতে এবং আকাবিরদের পথে চলতে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সাহায্য ও সফলতা দান করবেন বলে আমরা আশাবাদী।হে আল্লাহ,আপনি আমাদের সকলকে দিনের খেদমত করার তাওফীক দান করুন আমিন
জীবন বৃত্তান্ত
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী
প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক | ইসলামিক স্কলার | শিক্ষাবিদ
দ্বীনি বক্তা | উদ্যোক্তা | সমাজসেবক | সংগঠক
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ব্যক্তিগত পরিচয়
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
নাম:
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী
পিতার নাম:
মোঃ সাজু মিয়া
মাতার নাম:
মোছাঃ শরীফা বেগম
জন্ম তারিখ:
১৯ এপ্রিল ২০০০ ইং
বর্তমান বয়স:
২৬ বছর
স্থায়ী ঠিকানা:
গ্রাম: কৈকুড়ি
ডাকঘর: মতিপুর
থানা/উপজেলা: পীরগাছা
জেলা: রংপুর, বাংলাদেশ
পারিবারিক পরিচয়:
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী পিতা-মাতার
একমাত্র সন্তান। তিনি ছোটবেলা থেকেই একটি আদর্শ, সুশৃঙ্খল,
নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে বেড়ে ওঠেন।
পারিবারিক পরিবেশ থেকেই তিনি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সততা,
দায়িত্ববোধ, পরিশ্রম ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার শিক্ষা
লাভ করেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে নতুন কিছু করার,
মানুষের জন্য কিছু করার এবং জীবনে সফল হওয়ার প্রবল
আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
শৈশব ও শিক্ষাজীবনের সূচনা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবীর শিক্ষাজীবনের
প্রথম যাত্রা শুরু হয় নিজ এলাকার কৈকুড়ি ছাড়ারপাড় ব্র্যাক
স্কুলে।
সেখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর
কৈকুড়ি মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে
সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
ছোটবেলা থেকেই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি তাঁর মধ্যে দ্বীনি
শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পবিত্র কুরআন হিফজ
করার উদ্দেশ্যে তিনি কৈকুড়ী আদর্শ হাফিজিয়া মাদ্রাসায়
ভর্তি হন এবং সেখান থেকে পবিত্র কুরআনুল কারীম হিফজ
সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে কদমতলা আল-হাজরা মাদ্রাসায় পবিত্র কুরআনের
হিফজ শুনানি সম্পন্ন করেন।
কুরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তিনি কৈকুড়ি দাখিল মাদ্রাসায়
ভর্তি হন এবং দাখিল পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
এরপর তিনি পীরগাছা মাদ্রাসা থেকে ফাজিল/বি.এ. সম্পন্ন করেন।
উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি ঢাকা উত্তরা
অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম বাংলাদেশে
অধ্যয়ন করেন এবং সেখান থেকে মিশকাত, দাওরায়ে হাদিস ও
ইফতা সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রতিষ্ঠান
পরিচালনা, শিক্ষা কার্যক্রম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বাস্তব
অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
কর্মজীবনের প্রথম অধ্যায়
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি দাওয়াতুল কোরআন মাদ্রাসায়
সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু
হয়। ছাত্রজীবনের পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান
পরিচালনার কাজে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর মধ্যে নেতৃত্ব,
সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা আরও
বিকশিত হয়।
পরবর্তীতে তিনি নিজ উদ্যোগে জালালগঞ্জ দারুল কোরআন মাদ্রাসা
প্রতিষ্ঠা করেন।
জীবনের প্রথম প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই তিনি
বড় ধরনের ধাক্কা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বিভিন্ন
সমস্যা, বাধা ও প্রতিকূলতার কারণে তিনি অনেকটা হতভম্ব হয়ে
পড়লেও থেমে যাননি।
বরং সেই ধাক্কাকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে নতুন উদ্যমে
আবারও কাজে ফিরে আসেন এবং দাওয়াতুল কোরআন মাদ্রাসার
কার্যক্রমসহ দ্বীনি ও শিক্ষা কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত
রাখেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও সাহসের ইতিহাস
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবীর জীবনের সবচেয়ে
বড় ইতিহাসগুলোর একটি হলো—তিনি প্রতিকূলতার কাছে কখনো
নিজেকে পরাজিত হতে দেননি।
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে নানা ধরনের বিপদ, বাধা,
সমালোচনা, অপমান, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
এমনকি নিজের কাছের ও আপন মানুষদের কাছ থেকেও তিনি অনেক
সময় ছোট হয়েছেন এবং কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু এসব অভিজ্ঞতা
তাঁর হৃদয়ে মানুষের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে
পারেনি।
তিনি কাউকে অপছন্দ না করে, কারও প্রতি বিদ্বেষ না রেখে
নিজের লক্ষ্য ও কর্মের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তাঁর কাছে
জীবনের প্রতিকূলতা ছিল থেমে যাওয়ার কারণ নয়; বরং আরও
দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা।
তিনি সর্বদা সাহসের সঙ্গে চলাফেরা করেছেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে
নিজের কাজ করার চেষ্টা করেছেন। সততাকে তিনি নিজের জীবনের
অন্যতম প্রধান পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
শৈশবের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ছোটবেলায় পড়াশোনার ফাঁকে তিনি অনেক সময় একাকী বসে
ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতেন।
তিনি ভাবতেন—
কীভাবে জীবনে সফল হওয়া যায়?
কীভাবে মানুষের জন্য কিছু করা যায়?
কীভাবে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়?
কীভাবে দ্বীনি শিক্ষা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায়?
তাঁর এই চিন্তা ও স্বপ্ন অনেক মানুষ তখন বুঝতে পারেনি।
তাঁর চিন্তাভাবনা নিয়ে অনেকে সমালোচনা করত এবং বিভিন্ন
ভাবে তাঁকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করত।
কিন্তু তিনি মানুষের কথায় থেমে যাননি। বরং নিজের স্বপ্ন,
সততা, পরিশ্রম ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে সামনে
এগিয়ে যেতে থাকেন।
আজ তাঁর সেই ছোটবেলার চিন্তা ও স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ
করতে শুরু করেছে।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ব্যবসা ও উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
দ্বীনি ও শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি পরবর্তীতে তিনি
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত হন।
নিজের মেধা, বুদ্ধি, পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে
তিনি বিভিন্ন ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানসমূহ—
১. সিদ্দিক সুজ ফ্যাক্টরী
২. সিদ্দিক ফুটওয়্যার
৩. সিদ্দিক আইডিয়াল স্কুল এন্ড মাদরাসা
৪. সিদ্দিকিয়া ইসলামিয়া মডেল মাদসা
৫. কাঠগড়া সিদ্দিকিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
৬. সিদ্দিকিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
(শেওড়াপাড়া শাখা)
৭. সিদ্দিকিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
(চট্টগ্রাম শাখা)
৮. সিদ্দিকিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
(গাইবান্ধা শাখা)
৯. সিদ্দিকিয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
(কান্দাইল শাখা)
১০. সিদ্দিকীয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা
(লালমনিরহাট শাখা)
(প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে)
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
সিদ্দিকীয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অগ্রযাত্রা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
তাঁর দীর্ঘদিনের চিন্তা, পরিকল্পনা, শ্রম, মেধা ও প্রচেষ্টার
ফল হিসেবে সিদ্দিকীয়া ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার বিভিন্ন
শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন নতুন শাখার কার্যক্রম
ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে।
একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ একাধিক
অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে।
শেওড়াপাড়া, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, কান্দাইলসহ বিভিন্ন
শাখার পাশাপাশি বর্তমানে লালমনিরহাট শাখার কার্যক্রমও
হাতে নেওয়া হয়েছে।
তাঁর লক্ষ্য শুধু প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করা নয়; বরং এসব
প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি আদর্শ, নৈতিক, দক্ষ ও
দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলা।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ইকরা নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
তাঁর মেধা, বুদ্ধিমত্তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মদক্ষতায়
সন্তুষ্ট হয়ে ইকরা নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ
তাঁকে একজন সফল সিনিয়র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান
করে।
বর্তমানে তাঁর অধীনে ৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও
কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।
এ দায়িত্ব তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং
শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ
দৃষ্টান্ত।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
সিদ্দিক ফাউন্ডেশন ও বিনামূল্যে মক্তব কার্যক্রম
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
শিক্ষা ও দ্বীনি খেদমতের পাশাপাশি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত
শিশুদের জন্য তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সমাজসেবামূলক কাজ
পরিচালনা করছেন।
“সিদ্দিক ফাউন্ডেশন” নামে তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে বর্তমানে
১০টি দরিদ্র এলাকায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মক্তবের কার্যক্রম
চলমান রয়েছে।
নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এসব মক্তবের মাধ্যমে
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের কুরআন ও প্রাথমিক দ্বীনি শিক্ষার
সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তাঁর এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো—অর্থের অভাবে যেন
কোনো শিশু কুরআন ও মৌলিক দ্বীনি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
সিদ্দিক শিল্পীগোষ্ঠী
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী
“সিদ্দিক শিল্পীগোষ্ঠী”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক হিসেবে
দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সুস্থ সংস্কৃতি ও সুন্দর
সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি
এবং তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক ও সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশের
সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে তিনি এই কার্যক্রম পরিচালনা
করছেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ইসলামিক স্কলার ও বক্তা হিসেবে ভূমিকা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
তিনি একজন ইসলামিক স্কলার ও ইসলামী বক্তা হিসেবে দেশের
বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিল ও ইসলামী অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণ করেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামের
বিভিন্ন বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরেন এবং মানুষকে দ্বীনের
পথে চলা, নৈতিক জীবনযাপন, মানবিকতা ও সৎকর্মের প্রতি
উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন।
শিক্ষা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সমাজসেবার পাশাপাশি ইসলামী
দাওয়াহর কাজেও তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
মেধা, বুদ্ধি ও সাংগঠনিক দক্ষতা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
বর্তমানে তাঁর বয়স ২৬ বছর। অল্প বয়সেই তাঁর মেধা,
বুদ্ধিমত্তা, দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা
তাঁকে একসঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম পরিচালনা
করার সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করেছে।
একই সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,
দাওয়াহ কার্যক্রম, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের
সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি তাঁর কর্মপরিধি বিস্তৃত করেছেন।
দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং একাধিক
কাজকে সমন্বয় করে এগিয়ে নেওয়ার দক্ষতা তাঁর কর্মজীবনের
একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
মানবিকতা ও ক্ষমাশীলতার দৃষ্টান্ত
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
জীবনের বিভিন্ন সময়ে নিজের কাছের মানুষদের কাছ থেকেও
তিনি কষ্ট পেয়েছেন, ছোট হয়েছেন এবং নানা ধরনের
অবহেলা ও বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছেন।
কিন্তু তিনি এসব কষ্টকে নিজের জীবনের অগ্রগতির পথে
বাধা হতে দেননি। বরং তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা,
ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতার মানসিকতা বজায় রেখে নিজের
কর্ম ও লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন—মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার প্রতিশোধে
নয়; বরং কষ্ট পাওয়ার পরও ভালো কাজ করে যাওয়ার
মানসিকতায়।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
জীবনের মূলনীতি
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান নীতি হলো—
“সাহসের সঙ্গে চলাফেরা করা,
নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা,
সততাকে পুঁজি করা,
পরিশ্রমকে সঙ্গী করা
এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে
সামনে এগিয়ে যাওয়া।”
জীবনের প্রতিটি ধাক্কা তাঁকে নতুন কিছু শিখিয়েছে।
প্রতিটি বাধা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। মানুষের সমালোচনা,
অপমান, লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে
পারেনি।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
বর্তমান কর্মপরিধি
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
বর্তমানে তিনি একইসঙ্গে—
• শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা
• দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার
• মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা
• ইকরা নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের সিনিয়র প্রতিনিধি
হিসেবে দায়িত্ব পালন
• ৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা
• সিদ্দিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ১০টি দরিদ্র এলাকায়
বিনামূল্যে মক্তব পরিচালনা
• সিদ্দিক শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক হিসেবে
দায়িত্ব পালন
• দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামী বক্তা হিসেবে
ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ
• বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা
• নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
ইত্যাদি বহুমুখী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও স্বপ্ন
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবীর অন্যতম
প্রধান লক্ষ্য হলো কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ শিক্ষা
সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি চান দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সন্তানরাও যেন
দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ পায়। পাশাপাশি দক্ষ,
নৈতিক, আদর্শবান ও দেশ ও সমাজের জন্য কল্যাণকর একটি
প্রজন্ম গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম স্বপ্ন।
শিক্ষা, দাওয়াহ, মানবসেবা, সমাজকল্যাণ ও সুস্থ
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুন্দর, নৈতিক ও
আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই তাঁর দীর্ঘমেয়াদি
লক্ষ্য।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
জীবনের পথচলার সারকথা
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া, পিতা-মাতার একমাত্র
সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠা, ছোটবেলা থেকেই কুরআন হিফজ করা,
সাধারণ ও উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা অর্জন, ছাত্রজীবনের
পাশাপাশি কর্মজীবনে প্রবেশ, প্রথম প্রতিষ্ঠান করতে গিয়ে
বড় ধাক্কা খাওয়া, বিভিন্ন বাধা ও সমালোচনার সম্মুখীন
হওয়া—কোনো কিছুই তাঁকে থামিয়ে দিতে পারেনি।
বরং প্রতিটি ধাক্কা, প্রতিটি ব্যর্থতা ও প্রতিটি প্রতিকূলতা
তাঁকে আরও সাহসী ও দৃঢ় করেছে।
ছোটবেলায় যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি একাকী বসে ভাবতেন,
সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।
আজ শিক্ষা, ব্যবসা, দ্বীনি দাওয়াহ, সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক
কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অঙ্গনে তাঁর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।
তাঁর জীবনের গল্প মূলত একজন তরুণের স্বপ্ন, সংগ্রাম,
সততা, সাহস, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং মানুষের কল্যাণে কিছু
করার অদম্য আকাঙ্ক্ষার গল্প।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
“প্রতিকূলতা আমাকে থামিয়ে দেয়নি;
বরং প্রতিটি প্রতিকূলতাই আমাকে
আরও দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যেতে শিখিয়েছে।”
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
হাফেজ মাওলানা মুফতি শাহজাহান ইসলাম বিপ্লবী
প্রতিষ্ঠাতা | শিক্ষাবিদ | ইসলামিক স্কলার
দ্বীনি বক্তা | উদ্যোক্তা | সমাজসেবক
সংগঠক | প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক
